নাসির যখন আম্পায়ার

সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৭, ৯:২২ অপরাহ্ণ

মাঠে ফিল্ডার নাসিরকে দেখলে মনে হয়, ক্রিকেট খেলাটা না জানি কত সোজা! চাপহীন, নির্ভার, আমুদে, রসিকতাপ্রিয়—নাসির হোসেনের সঙ্গেই যায় এসব শব্দ। ছয় বছর আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর থেকেই এমন নাসিরকে দেখছে সবাই। আজ চট্টগ্রাম টেস্টের তৃতীয় দিনেও দেখা গেল সেই নাসিরকেই।

১০৯তম ওভারে মিরাজের করা শেষ বলটা বেশ বাঁক খেয়ে ছোবল মারে প্যাট কামিন্সের প্যাডে। অস্ট্রেলীয় পেসার শট খেলার কোনো চেষ্টা না করায় লেগ বিফোরের আবেদন করেছিল বাংলাদেশ দল। আম্পায়ার নাইজেল লং নাকচ করে দেওয়ায় রিভিউ নিয়েছিলেন অধিনায়ক মুশফিক। টিভি আম্পায়ার আলিম দার রিভিউ পর্যালোচনা করার সময় মাঠের আম্পায়ার লংয়ের পাশে এসে দাঁড়ালেন একজন। লং তখন ব্যস্ত টিভি আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত শোনায়। আউটের সিদ্ধান্ত আসার পর লং যখন আঙুল তুলছেন, তখন পাশের সেই ব্যক্তিটিও ঠিক লংয়ের আদলেই আঙুল তুললেন! লংয়ের পাশে ‘নকল’ সেই আম্পায়ারটি নাসির হোসেন।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এর আগেও আম্পায়ারের ভঙ্গিমা নকল করতে দেখা গেছে নাসিরকে। চট্টগ্রাম টেস্টেও তাঁর সৌজন্যে সৃষ্ট মজার পরিস্থিতি, দর্শকদের ক্ষণিকের জন্য হলেও ভুলিয়ে দিয়েছিল ক্রিকেটের জটিল সব হিসাব-নিকাশ। আসলে ফিল্ডার নাসির যখন চনমনে থাকেন, তখন তিনি এমনই—সবাইকে মজায় রাখেন, মজা করতে ভালোবাসেন।
দুই বছর আগে মিরপুরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচেও দেখার মতো এক দৃশ্যের অবতারণা করেছিলেন নাসির। ব্যাট করছিল জিম্বাবুয়ের শেষ উইকেট জুটি। মোস্তাফিজুর রহমানের করা ৪৩তম ওভারে নাসিরের বুদ্ধিতে স্লিপে আট ফিল্ডার রেখেছিলেন অধিনায়ক মাশরাফি। বাংলাদেশের ক্রিকেটভক্তদের জন্য এমন দৃশ্য তো আর রোজ মেলে না, যা দেখা গিয়েছিল নাসিরের কল্যাণে।
ক্রিকেটে ‘সেন্ডিং অফ’ আচরণবিধির শাস্তির মধ্যে পড়ে। ফিল্ডাররা আউট হওয়া ব্যাটসম্যানকে সাজঘর দেখাতে পারবেন না, বা এ নিয়ে কোনো বাজে মন্তব্য করতে পারবেন না। আম্পায়ারের রিপোর্টের ভিত্তিতে শাস্তি পেতে হতে পারে সেই খেলোয়াড়টিকে। অবশ্য আজ নাসির যা করেছেন, তাতে সবচেয়ে বেশি মজা আম্পায়ারই পেয়েছেন।
ভদ্রলোকের খেলায় অতিরিক্ত নিয়মকানুনের ফাঁকফোকরে নাসিরদের মতো চরিত্র নির্মল বিনোদন দেয়। ক্রিকেটে এই চরিত্রগুলোই হারিয়ে যাচ্ছে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ